আজ আমি বলব আমার হাইসস্কুল লাইফের কিছু স্বর নীয় কিছু সৃতি বা মুহুর্ত।
![]() |
| image source:unsplash হাইস্কুল জীবনের গল্প | www.bd-express.top |
প্রথম প্রথম তেমন কাউকে চিনতে পারছি না। শুধু চিনতে পারছি আমার সাথে প্রাইমারি স্কুলে পরা কিছু ছেলে মেয়ে।এরপরে রেগুলার স্কুলে যেতে থাকলাম। আস্তে আস্তে সবাই কে চিনলাম ও কিছু বন্ধু বানিয়ে ফেললাম।এর মধ্যে ছিল - হাসান,ছাব্বির,রাব্বি এবং আরও কয়েক জন।তার মধ্যে _আকাশ, নিশান,আশিকুল,সাগর এরা আমার প্রাইমারি স্কুলের বন্ধু। আমি সহ আমরা ৫ জন প্রতিদিন একই বেঞ্চে বসতাম।বেঞ্চটি ছিল মাঝখানের লাইনের ৪ নাম্বার বা ৩ নম্বর।তাই আমাদের সকালেই চিনত।তবুও তার মধ্যে বেশি চিনত আমাদের স্কুলের জেসমিন ম্যাডাম আর প্রত্যেক দিন ক্লাসে এসে বলত আজকেও ৫ শয়তান একসাথে বসেছিস।আর আমরাও প্রত্যেক দিন বলতাম হ্যাঁ ম্যাডাম আজকেও এক সাথে বসেছি।
স্কুল জীবনের ভালোবাসা
এভাবেই কেটে গেল ১ বছর.......
এবার আমরা ৭ম শ্রেণিতে উঠলাম , তার আগে বলে রাখি ৬ ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় আমরা কোনো মেয়েদের সাথে কথা তেমন বলিনি। কিন্তু ৭ম শ্রেণি উঠার পরে আসতে আসতে মেয়েদের সাথে কথা বলা শুরু হলো। আমাদের ৫ জন বন্ধুর মধ্যে সাগর ছেলে টি ছিল একটু স্টাইলিশ আর একটু ভাব-ভঙ্গি বেশি ছিল(বর্তমানে সাগর অনেকটা পাল্টিয়ে গেছে সে নামাজ কালাম পরে ও তার নাম টা সাগর থেকে মুসলিমি সাদ রেখেছে)। তাই কোনো মেয়ে আমাদের সাথে কথা বলতে আসলে সবার আগে সাগর কথা বলত।এভাবেই হালকা-পাতলা ভাবে কথা বলে আবারও কেটে গেল একটি বছর।
১বছর পর ৮ম শ্রেনী......
এবারব ৮ম শ্রেণিতে অর্থাৎ আমাদের সাথে ভর্তি হলো নিশানের ফুফাতো ভাই তার রিদয় ।সে এসে আমাদের সাথে বসে।এবং আমরা জানি যে,১টি হাইবেঞ্চে সর্বোচ্চ ৫ জন বসতে পারে। কিন্তু আমরা তো আগে থেকেই ৫ জনই তো ছিলাম।পরে আবার রিদয় আমাদের সাথে বসার জন্য সুযোগ খুজতেছিল। এরপর সুযোগ পেয়ে আমাদের সাথে মাঝের সাইটের ৪ নম্বর বেঞ্চে বাস শুরু করল।রিদয় ছিল একটু শয়তান কোয়ালিটির। কারণ ও প্রায় সবার পিছনে লাগত।এভাবেই চলতে লাগলো,তার মাঝে ছিল কিছু মেয়ে বন্ধু যেমন ; সন্ধ্যা, রুপা,রুনা,রিংকি, অনান্য আরও কয়েক জন ছিল।
কিন্তু এদের মধ্যে সন্ধ্যা ছিল যাকে আমরা ম্যাডাম বলে ডাকতাম। এবং তার সাথেই আমাদের বেশি পরিমাণ কথা হত। সন্ধ্যার ভালোবাসার গল্প পরতে এখানে ক্লিক করুন। এদের সাথে সবরকমের কথা বার্তা হতো। এই কথা গুলো বলতাম যখন আমরা আমাদের স্যারের কাছে প্রাইভেট পরতে যেতাম। তাছাড়াও স্কুলের ক্লাস রুমেও কথা হতো। কিন্তু ক্লাস রুমে কথার চেয়েও গান বেশি হতো। আসলে আমাদের বন্ধুদের মধ্যে আকাশ সবচেয়ে ভালো গান বলতে পারত।এবং ওর অনেক গান মুখুস্ত ছিল।এবং সব গানের মধ্যে হৃদয় খানের গান গুলো ওর বেস মুখুস্ত ছিল।এক কথায় বলতে গেলে হৃদয় খানের বড় ফ্যান ছিল আকাশ। ""রিদয়ের নীল আকাশে স্বপ্ন আমার উরে"" আকাশের কাছে ছিল প্রিয় এই গানটি এবং পুরো ক্লাসে এই গানটি খুবই জনপ্রিয় ছিল।
Bangla High Love Story
একপ্রিয়ড পর পর যে সময় টুকু পায় তখনই আমরা আমাদের গানের আসর বসায়।এবং আকাশের পাশাপাশি আমরা সবাই মিলে গান বলতে থাকি। এছাড়াও টিফিন টাইমে তো ছিলই ভরপুর সময় । আমরা কিন্তু লেখা পড়ার বিষয়ে সিরিয়াস সিলাম। তাই গান-বাজনা খেলাধুলা তেমন করতে পারিনি। তবুও ভালো মজা করেছি। [[ এই ৮ম শ্রেণিতে থাকা কালিন আকাশের ভালবাসার একটি গল্প আছে যা পড়ে এখানে ক্লিক করুন ]] এভাবেই আবারও ১টি বছর কেটে গেল।
এখন আমরা ৯ম শ্রেণির ছাত্র.....
কিন্ত ৯ম শ্রেনীতে আমরা কি নিয়ে পড়ব -আর্টস,কমার্স, না সাইন্স।এ নিয়ে আমি চরম কনফিউশানে পরলাম। একেক স্যার একেক রকমের কথা বলে।তাই আমরা ৫ বন্ধুর মধ্যে আমরা ৪ জন সাইন্স নিয়ে পড়ব এই সিদ্ধান্ত নিলাম। আর বাকি ২জন আর্টস আর কমার্সে ভর্তি হলো।সবাই তার ইচ্ছে মত বিভাগে ভর্তি হলো।কিছু দিনব পর..... আমাদের সাথে যে তিন জন সাইন্সে ভর্তি হয় তার মধ্যে ২জন আকাশ আর আশিকুল সাইন্সের পড়া কঠিন এজন্য তারা সাইন্সে থেকে কমার্সে ভর্তি হলো। [[My Sad Love Story]]
এভাবেই আবারও একটি বছর কেটে গেল.....
এখন আমরা ১০ম শ্রেণিতে পড়ছি.. আমদের স্কুলে কয়েকটি আম গাছ ছিল। তো আমরা কয়েক প্রত্যেক দিন কয়েকটা আম পেরে সবাই মিলে খেতাম। একদিন আমরা কয়েক বন্ধু মিলে আম পারছি হঠাৎ কয়েকজন মেয়ে আসল(এক কথায় আমাদেরিই বন্ধু তারা) । তারা বলে যে,আমাদের কেউ আম দেওয়া লাগবে। কিন্তু আম তো আমদের কাছে বেশি নেই। কিন্তু তারা আমাদের সাথে জোর কিরে সব আম নিয়ে। এই টা দেখে আমাদের ভেতর থেকে ইসমাইল নামক বন্ধু আম গাছে উঠে আম পারতে থাকে। অনেক আম পারলাম । ঠিক সেই সময় স্যাররা দেখে ফেলেছে। এখন আমরা কি করব । একটু ভয় ভয় লাগছে।
স্যার এসে বলল যে, এত আম পেরে তোরা কি করছি
আমরা বললাম যে, না স্যার এমনিই!!
আবার স্যার বলল, তাহলে আমার জন্য কিছু আম পেরে দে বাড়িতে নিয়ে যাব।এরপর স্যাররের অনুমতি পেয়ে আরো বেশি করে আম পারতে শুরু করলাম। এরপরে স্যারের জন্য আম নিয়ে অফিস রুমে গেলাম আম দিতে।আবার অই আম দেখে আরও কয়েক স্যার বলল খালি অই স্যারের জন্য আনলি তে আমাদের তা কোথায়.? কিছু স্যার বলল যে,স্কুলের আম গাছ থেকে কখনোই আম তো পাই না এবার নাই কাচা আমিই পাওয়া যাবে। যা আমদের জন্য কিছু আম পেরে নিয়ে আয়।
স্কুল লাইফের ভালোবাসা
আম পারার জন্য আমরা কয়েকজন টিফিনের পর থেকে ছুটি পেয়ে গেলাম। আর স্যারের জন্য আম পারতে শুরু করলাম।আমার দুই থেকে তিন বন্ধু গাছে উঠেছে। আর আমরা কয়েকজন নিচে থেকে আমি ক্যাস ধরছি।কারণ আম পারার জন্য আমাদের তেমন কোনো প্রস্তুতি বা সরঞ্জাম ছিল না।এভাবেই আম পারতে পারতে স্কুল ছুটি হয়ে গেল।সকল স্যার কে আম দিয়ে আমরা কয়েকজন কিছু বড় বড় বেচে রেখেছিলাম তাই নিয়ে আমরাও বাড়ি চলে গেলাম।
এভাবেই আমাদের আমাদের হাইস্কুল জীবনের ৫ টি বছর কেটে যায়।
আজকের মতো এতটুকু আবার অন্য দিন গল্প হবে।
[[বন্ধুর প্রেমের গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন ]]

0 Comments:
⚠️ এমন কোনো মন্তব্য করবেন না যাতে, অন্য কোনো ব্যাক্তির সমস্যা হয়।